Others

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন

Rate this post

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন: আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন, আজকের পোস্টে আমরা জানবো কিভাবে খুব সহজে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন যাচাই করা যায় সেটির প্রক্রিয়া। আপনি যদি আপনার জন্ম নিবন্ধনটি যাচাই করতে চান, তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

জন্ম নিবন্ধন যাচাই

প্রথমেই বলে রাখি: অনলাইনে নাম দিয়ে জন্ম নিবন্ধন চেক করা যায় না। আপনি অনলাইনে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন নাম্বার এবং জন্ম তারিখ দিয়ে যাচাই করতে পারবেন।

জন্ম নিবন্ধন অনলাইন

  • প্রথমে আপনাকে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে একটি ব্রাউজার ওপেন করতে হবে, তারপর https://everify.bdris.gov.bd এই ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে
  • ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার পর আপনি নিচের ছবির মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন

everify.bdris .gov .bd

  • এখন Birth Registration Number দেওয়ার একটি বক্স দেওয়া থাকবে সেখানে আপনার কাঙ্গিত নিবন্ধন নাম্বারটি দিন
  • এবার আপনার Date of Birth বা জন্ম তারিখটি নিচের বক্সে দিন
  • সঠিকভাবে ক্যাপচা কোডটি দেখে লিখুন
  • Search বাটনে ক্লিক করুন

birth certificate verification

সিকল তথ্য সঠিক থাকলে আপনি উপরের ছবির মত সকল তথ্য দেখতে পাবেন, আর এভাবেই আপনি আপনার জন্ম নিবন্ধন যাচাই কপি অনলাইনে দেখতে পারেন। এখন আমরা জন্ম নিবন্ধন সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আলোচনা করব

অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন: আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন, আজকের পোস্টে আমরা জানবো কিভাবে খুব সহজে অনলাইনের মাধ্যমে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করা যায় সেটির প্রক্রিয়া। আপনি যদি আপনার জন্ম নিবন্ধনটি সংশোধন করতে চান, তাহলে আজকের এই পোস্টটি আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন

আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ যদি কোন কারনে কোন তথ্য উল্লেখিত হয় যেমন নাম, জন্ম তারিখ পিতা বা মাতার নাম বা ঠিকানা এটি খুবই দ্রুত সংশোধন করা উচিত। জন্ম নিবন্ধন কাগজ যদি ভুল থাকে তাহলে ভবিষ্যৎ এ আপনি নানাবিধ সমস্যার সম্মুখিন হতে পারেন। তাই আজকে আমি আপনাদের জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম আপনাদের বলবো।

জন্ম নিবন্ধন সনদ আমাদের প্রত্যেকটি মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি। আমরা যখন ইউনিয়ন বা পৌরসভার তথ্যকেন্দ্র থেকে আমাদের জন্ম নিবন্ধন সনদ তৈরি করে থাকি তখনই একটা কারণে আমাদের অনেক সময় জন্ম নিবন্ধন আবেদন ভুল তথ্য উল্লেখিত হয়। পরবর্তীতে সেই ভুল তথ্য অনেকটা সময় বিপদ বয়ে আনতে পারে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য। আর এই ভুলগুলো খুব সহজে অনলাইন থেকে সংশোধন করা সম্ভব। আজকের আর্টিকেলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার নিয়ম এবং প্রক্রিয়া জানতে পারবেন এবং ঘরে বসে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদন করতে পারবেন।

পিতা/মাতার নাম সংশোধন করতে হলে, নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন।

  • যদি আপনার পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর থাকে, তাহলে তাদের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন করে তাদের নাম সংশোধন করে আসতে হবে। এরপর যদি আপনার জন্ম নিবন্ধন করার সময় আপনার পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে থাকেন, তবে তাদের নাম সংশোধন করার পর আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণ করলে সেখানে পিতা/মাতার সংশোধিত নাম দেখা যাবে। আর যদি আপনার জন্ম নিবন্ধন করার সময় আপনার পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না দিয়ে থাকেন, তবে আপনার জন্ম নিবন্ধন নম্বরের সাথে পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ম্যাপ করতে হবে। পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর ম্যাপ করার পর আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ পুনর্মুদ্রণ করলে, সেখানে পিতা/মাতার সংশোধিত নাম দেখা যাবে।
  • যদি আপনার পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকে এবং আপনার জন্ম তারিখ 01/01/2001 এর পূর্বে হয়, তবে আপনার জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন করার সময় আপনার পিতা/মাতার নাম সংশোধন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার পিতা/মাতা মৃত হলেও তাদের মৃত্যুর কোন প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে না।
  • যদি আপনার পিতা/মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর না থাকে এবং আপনার পিতা/মাতা মৃত হয় এবং আপনার জন্ম তারিখ 01/01/2001 এর পরে হয়, তবে আপনার জন্ম নিবন্ধন তথ্য সংশোধন আবেদন করার সময় আপনার পিতা/মাতার নাম সংশোধন করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনার পিতা/মাতার মৃত্যুর প্রমাণপত্র দাখিল করতে হবে।

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন অনলাইন – ধাপ: ১

আপনি জন্ম নিবন্ধন সংশোধন অনলাইন থেকেই করতে পারবেন। এটির জন্য পূর্বে আপনার জন্ম নিবন্ধন সনদ অনলাইনে থাকতে হবে।তারপরে অনলাইন থেকে সরকারি জন্ম নিবন্ধন ওয়েবসাইট bdris.gov.bd/br/correction ওয়েব পেজে প্রবেশ করতে হবে। এরপরে নিচের মত একটি ওয়েব পেজ দেখতে পাবেন, এখানে আপনার 17 ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর এবং আপনার জন্ম তারিখ টাইপ করে অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করলে আপনার জন্ম নিবন্ধন তথ্য দেখতে পারবেন।

1

অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করার পরে নিচে আবেদনকারী ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন তথ্য দেখতে পাবেন।

  • তথ্য সঠিক থাকলে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে চাইলে নীল কালারের টিক মার্ক দেওয়া “নির্বাচন করুন” বাটনে ক্লিক করুন।
  • এরপরে কনফার্ম বাটন প্রেস করুন।
  • এরপর পরবর্তী একটি ওয়েব পেজ আপনাকে নিয়ে যাওয়া হবে, এবং যেটি দেখতে হবে নিচের ছবিটির মত। এখানে আপনার জন্ম নিবন্ধন আবেদন এর অফিসের ঠিকানা প্রদান করতে হবে। 

2

  • দেশ: বাংলাদেশ
  • বিভাগ: আপনার বিভাগ
  • জেলা: আপনার জেলা
  • উপজেলা: আপনার উপজেলা
  • পৌরসভা/ইউনিয়ন: আপনার পৌরসভা/ইউনিয়ন এর নাম দিন

সবকিছু দেওয়া সঠিক থাকলে এবার ‘পরবর্তী” বাটনে প্রেস করবেন। এরপরে আপনাকে একটি নতুন একটি পেজ হবে এটিই হবে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন অনলাইন এর পেইজ। এখান থেকে আপনার চাহিত তথ্যটি সংশোধন করার সুযোগ পাবেন।

3

  • এই পেজ থেকে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন অনলাইন এর আপনার সংশোধন করার কারণটি বা বিষয়টি বাছাই করতে হবে এজন্য নির্বাচন মেনু থেকে আপনার অপশনটি বাছাই করে নিবেন।
  • সংশোধনের বিষয়ে নির্বাচন করার পরে ডান পাশে আরেকটি অপশন চালু হবে সেখানে আপনার চাহিত সংশোধিত তথ্য প্রদান করবেন, যেমন জন্ম নিবন্ধন নাম সংশোধন করতে চাইলে সংশোধিত নাম টাইপ করবেন অথবা পিতা মাতার নাম সংশোধন করতে চাইলে সেটা উল্লেখ করবেন।

  • সংশোধিত তথ্য উল্লেখ করার পরে ডান পাশে আরও একটি অপশন দেখতে পাবেন সেখানে সংশোধনের কারণ উল্লেখ করবেন। যেমনঃ ভুল লিপিবদ্ধকরণ

  • আরও কোন তথ্য সংশোধন করতে চাইলে সবুজ কালারের “ আরো তথ্য সংযোজন করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে এরপরে উপরের নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে বিষয়, পরের বিষয় অনুযায়ী সংশোধিত তথ্য, এবং সংশোধনের কারণ উল্লেখ করে দিতে হবে।

  • উপরের সব তথ্য দেওয়া হয়ে গেলে নিচের মত আরেকটি ছবি দেখতে পাবেন। জন্ম নিবন্ধন সংশোধন আবেদনকারীর জন্মস্থান এর ঠিকানা এবং বর্তমান ঠিকানা প্রদান করতে হবে বাধ্যতামূলক।

4

  • ঠিকানা দেওয়ার পরে আবেদনকারীর তথ্য দিতে হবে । অর্থাৎ যিনি আবেদন করছেন তার তথ্য দিতে হবে। আবেদনকারী ব্যক্তির বয়স যদি 18 বছরের উর্ধ্বে হয় তাহলে সে নিজেই আবেদন করতে পারবে। আর যদি 18 বছরের নিচে হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে তার পিতা-মাতা ভাই-বোন আত্মীয়-স্বজন আবেদন করতে পারবে। তো আবেদনকারীর সাথে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন কৃত ব্যক্তির সম্পর্ক দিতে হবে। যেমন আপনি যার হয়ে আবেদন করে দিচ্ছেন তার সাথে আপনার সম্পর্ক হচ্ছে লেট করে দিতে হবে। আর যদি আপনি নিজেই হোন তাহলে নিজ সিলেক্ট করে দিবেন এবং অন্যান্য হলে অন্যান্য করে দিবেন।
  • পরের ঘরে আবেদনকৃত ব্যক্তির মোবাইল নাম্বারটি দিয়ে দিতে হবে।
  • এর পরের ঘরে সবুজ বাটনের সংযোজন ডকুমেন্ট অপশন থেকে আবেদনকৃত ব্যক্তির ভোটার আইডি কার্ড এর প্রিন্ট কপি আপলোড করতে হবে । অর্থাৎ সংশোধনের বিষয় থেকে আপনি যে অপশনটি বাছাই করেছেন যেমন পিতার নাম সংশোধন বা মাতার নাম সংশোধন এখান থেকে যার যে অপশনটি সিলেক্ট করেছেন সেই ব্যক্তির একটি ডকুমেন্ট আপলোড দিতে হবে। ডকুমেন্টটি যেকোনো ধরনের হতে পারে যেমন জন্ম নিবন্ধন বা ভোটার আইডি কার্ড সেক্ষেত্রে আপলোড এর সময় ডকুমেন্টের ধরন বাছাই করে নিবেন অপশন থেকে।
  • পেমেন্ট অপশন খুজে পাবেন। পেমেন্ট করার দুটি অপশন থাকবে। 1.Cash 2. Chalan আপনি যেভাবে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন অনলাইন এর ফি প্রদান করতে চাচ্ছেন সেই অপশন টি বাছাই করে নিতে হবে।5

  • আপনার দেওয়া সম্পূর্ণ তথ্য গুলো সঠিক ভাবে উপস্থাপিত হলে বা যাচাই বাছাই করা হলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করতে হবে। সাবমিট বাটনে ক্লিক করার পরে আপনার জন্ম নিবন্ধন সার্টিফিকেট সংশোধন করার জন্য আবেদন হয়ে যাবে ।
  • এর পরবর্তী পেইজে আপনার আবেদন নম্বর দেয়া হবে এবং আপনার আবেদনপত্রটি প্রিন্ট করে নিতে হবে। আবেদনপত্র পূরণ করে নেওয়ার পরবর্তী 15 দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের নিকট দাখিল করতে হবে।

এখন অনেকের মনেই আবার প্রশ্ন আসতে পারে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?

জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ফি কত?

জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করার ক্ষেত্রে যদি আপনি আপনার জন্ম তারিখ সংশোধন করতে চান তাহলে সরকারি বিধি মোতাবেক ১০০ টাকা ফি প্রদান করতে হবে। আর যদি আপনি অন্যান্য তথ্য যেমন বাবা-মায়ের নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে ৫০ টাকা ফি প্রদান করতে হবে।

nid info

জন্ম নিবন্ধন সম্পর্কিত  সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও তার উত্তর

প্রশ্ন ১ঃ জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে কিংবা পরবর্তী সময়েও নিবন্ধন করতে অনেক সময় পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন পাওয়া যায় না, করণীয় কী?

উত্তরঃ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ২০০৪ অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন সকলের জন্য ব্যধ্যতামূলক (ধারা ৫(১), ৬ক এবং ৮(১)) । আইনের এ নির্দেশনা কেউ না মানলে তিনি আইন লঙ্ঘনকারী হিসাবে গণ্য হবেন এবং অনধিক ৫০০০ টাকা অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। তাছাড়া, এখন বিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরিতে নিয়োগ, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয় পত্রসহ ১৯ টি ক্ষেত্রে জন্ম সনদ আবশ্যক। আবার জন্ম নিবন্ধন ব্যতীত কোন ব্যক্তির মৃত্যু নিবন্ধন করা যাবে না। মৃত্যু নিবন্ধন না হলে উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা যাবে না।

উত্তরঃ বিষয়টি এভাবে বুঝিয়ে বললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জন্ম নিবন্ধনে আগ্রহী হবেন। সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে পিতা মাতার জন্ম নিবন্ধন অপেক্ষাকৃত সহজ। কারণ সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের জন্য যে তথ্যাদি/রেকর্ডপত্র প্রয়োজন তার সঙ্গে পিতামাতার শুধু বয়স প্রমাণের রেকর্ড (শিক্ষা সনদ বা আইনের ৭(১) ধারা অনুযায়ী তদন্তসহ এনআইডি) যোগ করলেই অতি সহজে তাদের জন্ম নিবন্ধন করা সম্ভব। বিষয়টিকে সমস্যা হিসাবে না দেখে ‘সুযোগ’ হিসাবে দেখা যেতে পারে।

উত্তরঃতাছাড়া, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের শুদ্ধ ডাটাব্যাজের জন্য ‘ফ্যামিলি ট্রি’ আন্তর্জাতিকভাবে গৃহীত একটি উত্তম চর্চা। বাংলাদেশ এটি গ্রহণ করেছে। এই পদ্ধতিতে সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধন নম্বর যুক্ত করে একটি পারিবারিক কাঠামো তৈরি করা হয়, যাতে পিতা-মাতার সন্তানের সংখ্যা এবং তাদের ক্রমিক নম্বর জানা যায়। এর মাধমে উত্তরাধিকার নিশ্চিত হয় এবং অনৈতিকভাবে বয়স বা অন্যান্য তথ্য পরিবর্তনের প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হয়। এই পদ্ধতি বাংলাদেশে ভবিষ্যতে ‘পপুলেশন রেজিস্টার’ প্রণয়নে সহায়ক হবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিককে বিষয়টি ভালভাবে বুঝিয়ে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করে নিবন্ধন করিয়ে নিতে হবে।

প্রশ্ন ২ঃ ম্যানুয়াল জন্ম নিবন্ধন,যেগুলি এখনও অনলাইনে করা হয়নি-এগুলির বিষয়ে করণীয় কী?

উত্তরঃ ম্যানুয়াল জন্ম নিবন্ধনসমূহ অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির জন্য অনেকবার সময় দেওয়া হয়েছে। অনলাইন বহির্ভূত এই সকল জন্ম নিবন্ধন এখন হুবহু একই জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে অনলাইনে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নাই। যে এলাকায় হাতে লিখা জন্ম নিবন্ধনটি করা ছিল, সেই কার্যালয়ে রক্ষিত বইতে  সনদের তথ্যটি পাওয়া গেলে নিবন্ধক সরাসরি হাতে লিখা সনদের তথ্য দিয়েই  অনলাইন নিবন্ধন করে দিবেনযদি না  ইতঃপূর্বে অন্য কোথাও জন্ম নিবন্ধন করা হয়ে  থাকে।। তবে জন্ম নিবন্ধন নম্বরটি পরিবর্তিত হবে। এতে অবশ্য সংশ্লিষ্ট নাগরিকের কোন ক্ষতি বা অসুবিধা হবে না।

প্রশ্ন ৩ঃ পূর্বের সফটওয়্যারে সংশোধিত কোন তথ্য BDRIS সফটওয়্যারে পাওয়া না গেলে কী করতে হবে?

উত্তরঃ ইতঃপূর্বে সংশোধিত কোন তথ্য BDRIS সফটওয়্যারে পাওয়া না গেলে এই সকল সংশোধনের একটি বিস্তারিত তালিকা নির্বাহী অফিসার/ডিডিএলজির মাধ্যমে রেজিস্ট্রার জেনারেল-এর কার্যালয়ে প্রেরণ করা হলে তা হালনাগাদ করে দেওয়া হবে।

প্রশ্ন ৪ঃ পূর্বের যে সকল জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন শুধু বাংলায় আছে সেগুলি কীভাবে ইংরেজিতে করা হবে?

উত্তরঃ সফটওয়্যারে কোন তথ্য সংযোজন বা বিয়োজন সংশোধন হিসাবে গণ্য হবে। নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রথমেই তা উভয় ভাষায় করা প্রয়োজন ছিল। ইংরেজিতে না থাকায় তা এখন সংযোজন করতে গেলে তাও সংশোধন হিসাবে গণ্য হবে এবং তা জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৮-এর ১৫ বিধি অনুযায়ী সংশোধন করতে হবে।

প্রশ্ন ৫ঃ জমজ সন্তানের জন্ম নিবন্ধন কীভাবে করা হবে?

উত্তরঃ জমজ সন্তানের জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে প্রথমে একের পর এক আবেদন করে অনলাইনে সাবমিট করতে হবে তারপর যথাযথ নিয়মে নিবন্ধন করতে হবে । (একটি নিবন্ধন সমাপ্ত করে ফেললে অপর আবেদনটি অনলাইনে সাবমিট করতে সমস্যা হবে।)

প্রশ্ন ৬ঃ ১৭ ডিজিটের কম জন্ম নিবন্ধন নম্বর কিভাবে ১৭ ডিজিটে উন্নীত করা যাবে?

উত্তরঃ ১৭ ডিজিটের কম জন্ম নিবন্ধন নম্বর হলে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধকের কার্যালয়ে পুরাতন সনদটি জমা প্রদান করে ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন  নম্বর সম্বলিত সনদ নেওয়া যাবে। নিবন্ধনের সকল স্তরের মত এক্ষেত্রেও নাগরিকের নিজস্ব মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।

প্রশ্ন ৭ঃ পূর্বে নিবন্ধন না হয়ে থাকলে বিবাহিত নারীর জন্ম নিবন্ধন স্বামীর বাড়ির ঠিকানায় করা এবং সনদে স্বামীর নাম লিখা যাবে কি?

উত্তরঃ পূর্বে নিবন্ধন না হয়ে থাকলে আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী বিবাহিত নারীর বিলম্বিত জন্ম নিবন্ধন স্বামীর স্থায়ী ঠিকানায় করা যাবে। তিনি চাইলে তার জন্ম স্থানের ঠিকানায়ও নিবন্ধন করতে পারবেন। জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পিতা ও মাতার নাম লিখতে হবে, স্বামীর নাম লেখার কোন সুযোগ নাই। 

প্রশ্ন ৮ঃ নিবন্ধনাধীন ব্যক্তিকে কি বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় সনদ দিতে হবে?

উত্তরঃ হ্যাঁ! বাধ্যতামূলকভাবে  উভয় ভাষায় সনদ দিতে হবে। আবেদনপত্রটি গ্রহণের সময় জন্ম তথ্যসমুহ বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় আছে কি-না তা ভালোভাবে দেখে নিতে হবে।

প্রশ্ন ৯ঃ  জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বা তথ্য সংশোধন সংক্রান্ত আবেদনের সময় নিবন্ধনাধীন ব্যক্তি বা তার পিতা-মাতা-অভিভাবক  ছাড়া অন্য কারও মোবাইল ফোন নম্বর ব্যবহার করা যাবে কি?

উত্তরঃ যেহেতু বিষয়টি ব্যক্তিগত তথ্যের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেহেতু এ ক্ষেত্রে নিবন্ধনাধীন ব্যক্তি বা তার পিতা-মাতা-অভিভাবকের  মোবাইল ফোন নম্বরই দিতে হবে। এর সঙ্গে এদের কারও ইমেইল নম্বব (যদি থাকে) দিলে তা আরও সুবিধাজনক হবে।পরিবারের  সদস্য সংখ্যা ৫ জন হতে পারে এমন ধারণা থেকে সফ্টওয়্যারে একটি মোবাইল ফোন নম্বর পরিবারের সর্বোচ্চ ৫ জন সদস্যের ব্যবহারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোন ফোন নম্বর ৫-এর অধিক সংখ্যক নিবন্ধনে ব্যবহার করলে পরবর্তী সময়ে সেসকল নিবন্ধনের কোন সন্ধান পাওয়া যাবে না।

উত্তরঃ পরিবারের কোন মোবাইল ফোন না থাকলে বা সদস্য সংখ্যা মোবাইল ফোনের ধারণ ক্ষমতার বেশী হলে সে ক্ষেত্রে নিবন্ধনাধীন ব্যক্তি বা তার পিতা-মাতা-অভিভাবকের সম্মতিতে তার কোন নিকট-জনের ফোন নম্বর ব্যবহার করা যাবে। এইরূপ ক্ষেত্রে কোন অবস্থায়ই নিবন্ধন কার্যালয়ের কোন দাপ্তরিক বা কোন কর্মচারীর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর ব্যবহার করা যাবে না।

প্রশ্ন ১০ঃ। বিবাহ বিচ্ছেদ বা পিতা-মাতার একজন অপ্রাপ্য/নিখোঁজ হলে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন কীভাবে হবে?

উত্তরঃ এইরূপ ক্ষেত্রে পিতা-মাতার একজনের তথ্য দিয়ে, অপরজনের শুধু নাম উল্লেখক্রমে সন্তানের জন্ম  নিবন্ধন করা যাবে।

NID Download 2022

প্রশ্ন ১১ঃ  পিতা-মাতার যে কোন একজন বিদেশী হলে কীভাবে সন্তানের জন্ম নিবন্ধন করা হবে ?

উত্তরঃ মাতা অথবা পিতার যে কোন একজন বিদেশী হলে যিনি বাংলাদেশী তার স্থায়ী ঠিকানার প্রয়োজনীয় দলিলাদি নিয়ে যোগাযোগ করতে হবে। তখন নিবন্ধক প্রয়োজনীয়  অনুসন্ধান  শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে নিবন্ধন করে দিবেন।

প্রশ্ন ১২ঃ বিদেশে জন্ম নিবন্ধন করে দেশে ফেরৎ আসা কোন প্রবাসী জন্ম নিবন্ধনের তথ্য সংশোধন অথবা সনদ পুনঃমুদ্রণের আবদেন করলে করণীয় কী?

উত্তরঃ যে নিবন্ধন অফিসে জন্ম/মৃত্যু নিবন্ধন করা হয়, কোন সংশোধন বা সনদ পুনঃমুদ্রণের প্রয়োজন হলে সে অফিস থেকেই তা করতে হবে। আইনত অন্য অফিস থেকে তা করার  সুযোগ নাই। তবে স্থানীয় নিবন্ধন অফিসের সহায়তা নিয়ে অথবা নাগরিক নিজে সরাসরি অনলাইনে মূল নিবন্ধন অফিস বরাবর উপযুক্ত দলিলাদিসহ সংশোধন বা পুনঃমুদ্রণের আবেদন করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আবেদনের অনুলিপি রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে (arg1bdr@gmail.com) প্রেরণ করা হলে প্রয়োজনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা নিস্পত্তির ব্যবস্থা করা হবে।

উত্তরঃ ভবিষ্যতে জন্ম নিবন্ধন সনদের কোন করণিক ভুল সংশোধন অথবা ইংরেজি বা বাংলায় প্রতিলিপির প্রয়োজন হলে তা যে কোনো নিবন্ধন অফিস থেকে যাতে প্রদান করা যায়  সে বিষয়ে বাবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

প্রশ্ন ১৩ঃ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের ফি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ চালানের মাধ্যমে জমা সংক্রান্ত তথ্য BDRIS-এ প্রবেশ করাতে  গেলে অনেক সময় ফাইল আপলোড করা যায় না বা নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়। সমাধান কী?

উত্তরঃ জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৮-এর বিধি ২১ (৬) অনুযায়ী প্রতি মাসে আদায়কৃত অর্থ পরবর্তী মাসের ৭ তারিখের মধ্যে সরকারি তহবিলে জমা প্রদান বাধ্যতামূলক।

উত্তরঃ BDRIS-এ চালান সংক্রান্ত তথ্য আপলোড করতে না পারার দুইটি কারণ থাকতে পারে:

         ক) চালানের তথ্যের সঙ্গে সংযুক্ত ফাইলের পরিমাণ ১০২৪ কিলোবাইট এর বেশি হওয়া।  (প্রতিটি ফাইলের পরিমাণ  সর্বোচ্চ  ১০২৪ কিলোবাইট বা এর নিচে হতে হবে। )

         খ) চালানের টাকার পরিমাণ  ব্যালান্স-এর  পরিমাণের চেয়ে বেশি হওয়া। ( চালানের টাকার পরিমাণ সর্বদা ব্যলান্স-এর  সমান অথবা এর কম হতে হবে।)

        এখানে উল্লেখ্য যে, বদলি বা অন্য কোন কারণে ‘অথরাইজড ইউজার’কে রিলিজ করতে হলে বিধি ২১ (১) অনুযায়ী আদায়কৃত সমুদয় টাকা চালানের মাধ্যমে জমা দিয়ে ব্যালান্স শুন্য করে তারপর জেলা/উপজেলা অ্যাডমিনের মাধ্যমে তাকে রিলিজ করা যাবে।

প্রশ্ন ১৪ঃ  অনেক সময়  জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করলে আরও এক বা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ‘পসিবল ডুপ্লিকেট’ দেখায়। এটি একই নিবন্ধন অফিস, উপজেলা বা জেলার আওতাধীন এলাকার মধ্যে যেমন হয়, তেমনি জেলার সীমানা ছাড়িয়ে অন্য জেলা, বিভাগ এমন কি বিদেশ থেকেও এমনটি দেখায়।  আমরা কীভাবে  বিষয়টির সমাধান করতে পারি?

উত্তরঃ ‘পসিবল ডুপ্লিকেট’ দেখানোর কারণঃ

         জন্ম নিবন্ধনের আবেদন পত্র দাখিল করার পর কোনো আবেদনাধীন বাক্তির নাম, পিতার নাম এবং মাতার নাম জন্ম নিবন্ধন ডেটাবেসে সংরক্ষিত কোন নিবন্ধনাধীন ব্যক্তির সঙ্গে হুবহু মিলে গেলে সফটওয়্যার সয়ংক্রিয়ভাবে “সম্ভাব্য সদৃশ” বা ‘পসিবল ডুপ্লিকেট’ স্ট্যাটাস দেখায়।

         নিম্নে বর্ণিত ৫টি নির্ণায়ক বা  ‘প্যারামিটার’ মিলে গেলে ‘পসিবল ডুপ্লিকেট’  ১০০% ‘ডুপ্লিকেট’ হিসাবে প্রতীয়মান হয়ঃ

         ক. আবেদনাধীন বাক্তির নাম; খ. পিতার নাম; গ. মাতার নাম; ঘ. নিবন্ধন কার্যালয়ের নাম; এবং ঙ. জন্ম তারিখ।

         উল্লেখ্য যে ‘পসিবল ডুপ্লিকেট’ হিসাবে চিহ্নিত ব্যক্তিগণের জন্ম তারিখের  ব্যবধান ৮ থেকে ১০ বছর বা তার  বেশি হলে বা স্থায়ী ঠিকানা না মিললে সেই ক্ষেত্রে ‘ডুপ্লিকেট’ হবার সম্ভাবনা সাধারণত ০% হয়ে যায়।

      ‘পসিবল ডুপ্লিকেট’টি একই জেলায় হলে অথরাইজড ইউজার বা ক্ষেত্র বিশেষে উপজেলা নির্বাহী  অফিসার বা উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) প্রয়োজনীয় অনু্সন্ধান বা তদন্ত কিংবা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করবেন।

         ‘পসিবল ডুপ্লিকেট’টি একই জেলায় না হলে প্রথমে প্রশাসনিকভাবে ভিন্ন জেলার সাথে যোগাযোগ করে অনু্সন্ধান বা তদন্ত করতে হবে। এতে ডুপ্লিকেট হওয়ার অনুকুলে কোনো তথ্য পাওয়া না গেলে আবেদনকারীকে ভালোভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছে থেকে অন্যত্র তার জন্ম নিবন্ধন করা হয়নি মর্মে লিখিত নিয়ে আবেদনটি মঞ্জুর করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে  আবেদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে হবে।

             এখানে উল্লেখ্য যে, আবেদনপত্রটি বাতিল বা মঞ্জুর যা-ই করা হোক না কেন, এর লগ (log) স্থায়ীভাবে সংরক্ষিত থাকবে।

প্রশ্ন ১৫ঃ কোন কোন ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করা হলে সফ্টওয়্যারে একই নম্বরে একাধিক ব্যক্তিকে দেখায়। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?

উত্তরঃ  অনলাইন জন্ম নিবন্ধনের শুরুতে অসাবধানতা বা অন্যান্য কারণে কোন কোন ক্ষেত্রে একই নম্বর একাধিক ব্যক্তির জন্ম নিবন্ধন নম্বর হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। এইরূপ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলকে নিবন্ধন অফিসে এনে সম্মতির ভিত্তিতে ঐ নম্বরটি একজনকে বরাদ্ধ প্রদান করে অপরজনকে একটি নতুন নম্বর দিয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। সমঝোতা না হলে যার নিবন্ধন আগে হয়েছে তার জন্য এই নম্বরটি রেখে অপরজনকে নতুন নম্বর বরাদ্দ (reset) করতে হবে। এই অপশনটি BDRIS এর “জন্মতথ্য” মডিউলে “জন্ম নিবন্ধন বিষয় সঠিক করুন” অপশনে গেলে পাওয়া যাবে। সফটওয়্যারে এই অপশনটি শুধু ‘অথরাইজড ইউজার’ পাবেন।

উত্তরঃ অপর ব্যক্তিকে হাজির করা না গেলে, উপস্থিত ব্যক্তি সম্মত হলে তাকে একটি নতুন নম্বর প্রদান করা যেতে পারে। তদন্ত/অনুসন্ধানে অপর ব্যক্তি অস্তিত্ব-শুন্য প্রমাণিত হলে সেই নিবন্ধনটি বাতিল করতে হবে।

নতুন নিয়মে জন্মনিবন্ধন সংশোধন (ভিডিও)

আশা করি আপনারা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঘরে বসেই অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন সংশোধন করতে পারবেন। আপনাদের যদি কোন বিষয় বুঝতে অসুবিধা হয়, তাহলে দয়া করে কমেন্ট করুন। আমরা চেষ্টা করব আপনাকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য! ধন্যবাদ —

Back to top button